• শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
শিরোনামঃ
উড়ন্ত বিমানে ইমারজেন্সি রোগীর ট্রিটমেন্ট- ডা. শিব্বির ও রিদওয়ানের সাহসিকতা খালেদা জিয়ার ঋণ আমরা কখনো শোধ করতে পারবো না-অ্যাড. এমরান চৌধুরী নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানতে চায় জনগণ সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে মশাল মিছিল ঐতিহাসিক জুলাই যে বৃহত্তর ঐক্য তৈরি করেছে তা টিকিয়ে রাখতে হবে ঢাবির ৮ শিক্ষার্থী পেলেন ‘আয়েশা-আমিরুল ট্রাস্ট ফান্ড বৃত্তি’ জাবিতে হাসিনার পলায়ন দিবস উদযাপনে মিষ্টি বিতরণ শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশ, সরকারকে সাধুবাদ ফখরুলের বিভেদ-অনৈক্য অব্যাহত থাকলে অনিবার্য ওয়ান ইলেভেনের দিকে যাবে দেশ: মঞ্জু তারেক রহমানের হাতে দেশের শাসনভার চাইলেন নিজাম

উড়ন্ত বিমানে ইমারজেন্সি রোগীর ট্রিটমেন্ট- ডা. শিব্বির ও রিদওয়ানের সাহসিকতা

নব আলো ডেস্ক: / ১৫৬ Time View
Update : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক ফ্লাইটে উদ্ভূত হয় নাটকীয় এক পরিস্থিতি। আকাশের ৪০ হাজার ফুট ওপরে হঠাৎই একজন যাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিমানে ঘোষণা করা হয় মেডিকেল ইমার্জেন্সি। সেই সংকটে এগিয়ে আসেন দুজন যাত্রী চিকিৎসক ডা. শিব্বির আহমেদ সুহেল এবং ডা. রিদওয়ান শাহনেওয়াজ। পরে যোগ দেন ডা. রিদওয়ানের স্ত্রী ডা. মারজানা আয়েনী।

অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় পাওয়া যায় রোগীকে চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর peripheral pulse মিলছিল না, রক্তচাপ ছিল মাত্র ৭৫/৫০। অক্সিজেন লেভেল নেমে আসে ৮২%-এ। রোগী ছিল semi-conscious, হাত-পা ঠান্ডা। হৃদরোগ, CABG, atrial fibrillation, উচ্চ রক্তচাপ, CKD ও ডায়াবেটিস মিলিয়ে রোগীর পূর্বাভাস ছিল ভয়াবহ।

চিকিৎসকরা দ্রুত portable oxygen দেওয়া শুরু করেন। রাখা হয় trendelenburg position। এক যাত্রীর সহায়তায় পরীক্ষা করা হয় ব্লাড সুগার।

বিমানের medical emergency box খুলে দেখা যায় প্রয়োজনীয় অনেক সরঞ্জাম নেই-বিশেষ করে IV cannula। শকের কারণে রোগীর শিরা ভেঙে যাওয়ায় (collapsed vein) IV line নিতে সমস্যা হচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত একটি butterfly needle ব্যবহার করে দক্ষতার সাথে IV access নেন ডা. রিদওয়ান ও ডা. শিব্বির।

হার্ট ফেইলিউর থাকা রোগীর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ফ্লুইড ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় কম পরিমাণে সালাইন দিয়ে রক্তচাপ বাড়ানোর চেষ্টা চালানো হয়। কিছুক্ষণের মধ্যে রোগী সাড়া দিতে শুরু করেন।

সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত
চিকিৎসক দলকে পাইলট ও কেবিন ক্রুর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়- জরুরি অবতরণ প্রয়োজন হবে কি না। ডা. রিদওয়ান স্ট্যাটাসে লিখেন, এই সিদ্ধান্তই ছিল সবচেয়ে কঠিন। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করেন দুই চিকিৎসক। রোগীর অবস্থা ধীরে ধীরে স্থিতিশীল হওয়ায় জরুরি অবতরণ আর প্রয়োজন হয়নি।

সফল ল্যান্ডিংয়ের পর রোগীকে Airport NHS Authority-র কাছে SBAR পদ্ধতিতে হ্যান্ডওভার করা হয় এবং পরে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বিমান ক্রু, ক্যাপ্টেন ও রোগীর পরিবারের কৃতজ্ঞতা
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ক্রু, ক্যাপ্টেন এবং রোগীর পরিবার দুই চিকিৎসককে ধন্যবাদ জানান সময়মতো ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার জন্য।

স্ট্যাটাসের শেষে লিখেন, এটা ছিল নিখুঁত টিমওয়ার্ক।বিমানের মেডিকেল বক্সের উপকরণ ব্যবহার করে প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা দেওয়া সম্ভব। তবে রোগী সাড়া না দিলে অবশ্যই জরুরি ল্যান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিতে হবে-ঝুঁকি নেওয়া যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd